:

মাত্র ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিতেই ‘ডুবল’ চট্টগ্রাম :চরম ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী

top-news

সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা, সাথে ছিল গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। আবহাওয়া অফিসের হিসাবে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র ১০ মিলিমিটার। কিন্তু এই সামান্য বর্ষণেই আবারও চেনা রূপে ফিরল বাণিজ্যিক রাজধানী চট্টগ্রাম। মঙ্গলবার সকাল থেকে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো কালচে ও দুর্গন্ধযুক্ত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন লাখো নগরবাসী। 

জ্বলাবদ্ধতা নিরসেন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ), চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন, পানি উন্নয়ন বোর্ড গত চার বছর ধরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা ব্যায়ে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এর মধ্যে সামান্য বৃষ্টিতে তলিয়ে গেছে চট্টগ্রাম। 

 জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের  বাস্তবে এর সুফল নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নগরের প্রবর্তক মোড়, আগ্রাবাদ, হালিশহর,  তিন পুলের মাথা, কাতালগঞ্জ, মুরাদপুর ও বহদ্দারহাটের মতো নিচু এলাকাগুলো কোমর পানিতে তলিয়ে যায়। 

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা তৈরি হয় নগরীর প্রবর্তক মোড়ে। গতকাল যেখানে হাঁটুপানি ছিল, আজ সেখানে পানি উঠে গেছে বুকসমান। বদনা শাহ মাজার গেট থেকে প্রবর্তক মোড় পর্যন্ত পুরো সড়কই পানিতে থৈ থৈ করতে দেখা যায়।

প্রবর্তক মোড় এলাকায় হিজড়া খালের সম্প্রসারণ কাজ চলায় সেখানে দেওয়া অস্থায়ী বাঁধই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে দাবি সিটি কর্পোরেশনের। খালের মুখ বন্ধ থাকায় পানিনিষ্কাশন হতে পারছে না, ফলে উপচে পড়া পানি সরাসরি উঠে আসছে প্রধান সড়কে- এমন দাবি করেছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন ইখতিয়ার উদ্দীন আহমেদ চৌধুরী।  তাঁর দাবি চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) উন্নয়ন কাজের কারণেই পানি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে, জলাবদ্ধতার কারণে সড়কে গণপরিবহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। পানির মধ্যে ইঞ্জিন বিকল হওয়ার ভয়ে অনেক চালক গাড়ি বের করেননি। এই সুযোগে কয়েক গুণ বেশি ভাড়া আদায় করে রিকশাচালকরা। ৩০ টাকার গন্তব্যে যাত্রীদের গুনতে হচ্ছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা। 

চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্পের আওতায় ১০ হাজার কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হলেও সামান্য ১০ মিলিমিটার বৃষ্টিতে নগরী ডুবে যাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ মানুষ। 

নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, সমন্বয়হীন উন্নয়ন এবং খালের মুখে বাঁধ দিয়ে দীর্ঘ সময় কাজ ফেলে রাখাই এই নগরীতে জ্বলাবদ্ধতার প্রধান কারণ। দ্রুত এই বাঁধগুলো অপসারণ না করলে আগামী বর্ষা মৌসুমে চট্টগ্রামবাসীর দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে আশংকা তাদের।

এ অবস্থায় পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে নগরীর বিভিন্ন জলাবদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেন সিটি মেয়র ডাঃ শাহাদাত হোসেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত পানি নিষ্কাশনের নির্দেশ দেন এবং চলমান উন্নয়ন কাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দেন।

এসময় মেয়র বলেন, নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কোথায় সমস্যা আছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের চেষ্টা চলছে। নাগরিক দুর্ভোগ কমাতে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *